নিউজ ডেস্ক : ধর্ম শান্তি ও সহমর্মিতার পথ দেখায়, রাজনীতির হাতিয়ার নয় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস প্রসঙ্গে শ্রীরামপুর মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সম্পাদক পিয়ালকৃষ্ণ অধিকারী বলেন, “আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শে অনুপ্রাণিত। মহাপ্রভু যখন হরিনাম সংকীর্তনে বেরিয়েছেন, তখন তিনি কখনও দেখেননি কে চণ্ডাল, কে বৈশ্য, কে ক্ষত্রিয় বা কে ব্রাহ্মণ—সকলকে সমানভাবে আলিঙ্গন করেছিলেন হরিনামের আহ্বানে। এই আদর্শই আমাদের পথপ্রদর্শক।”তিনি আরও বলেন, “মন্দিরে যখন আমরা বিশ্বশান্তির যজ্ঞ করি, সেখানে কারা আহুতি দিচ্ছেন তা দেখে কাউকে আলাদা করা হয় না। জাত বা শ্রেণীর পরিচয়ে কাউকে কখনও বাদ দেওয়া হয়নি। আমরা সনাতনী হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী, কিন্তু পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতিও সমান শ্রদ্ধাশীল। নিজের ধর্মকে ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ধর্মকেও সম্মান করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।”ধর্মের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পিয়ালবাবু বলেন, “ধর্ম কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ধর্ম এক ধরনের ইম্যাটেরিয়াল বা আত্মিক ধারণা। মানুষ ভুল করতে পারে, কিন্তু ধর্মকে কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো একেবারেই অনুচিত।
”আগামীকাল ব্রিগেডে ‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমি মাহেশ মন্দিরের প্রধান সেবাইত পরিবারের সন্তান হিসেবে মূল মঞ্চে অতিথি রূপে আমন্ত্রণ পেয়েছি। গীতা কখনও শেখায় না যে অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে হবে। আমি গীতাকে ভালোবাসি, সেই কারণেই গীতা পাঠ ও অধ্যয়নে অংশগ্রহণ করব।”এছাড়াও তিনি জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে গীতা বিষয়ক একাধিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। ওইসব অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম আশা করা হচ্ছে।পিয়ালকৃষ্ণ অধিকারীর কথায়,“ধর্ম হোক শান্তি, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার পথ—এই শিক্ষাই আমাদের চিরন্তন উত্তরাধিকার।”

