নিউজ ডেস্ক : সাত বছর আগে মাত্র ১০০ টাকার জন্য বচসা অশান্তির জেরে ইট দিয়ে থেঁতলে মহন্মদ আনোয়ার (২৩) নামে এক যুবক কে খুনের ঘটনায় কৃষ্ণ বাউল দাস ও লক্ষ্মী রায় কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা ও আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে ১ বছরের হাজত বাসের নির্দেশ দেয় আদালত।মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সঞ্জয় কুমার শর্মা এই নির্দেশ দেন।আদালতের নির্দেশের পরেই এজলাসে কান্নায় ভেঙে পড়ে সাজাপ্রাপ্ত যুগল।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে ২০১৯ সালের ৭ জুন ভোর রাতে মহন্মদ আনোয়ার কে বাড়ি থেকে ডেকে আনে লক্ষ্মী রায়।ওই সময় লক্ষ্মীর সঙ্গে কৃষ্ণ ও ছিল।আনোয়ারের কাছে পাওনা ১০০ টাকা ফেরত চায় লক্ষ্মী।তখন আনোয়ার বলে আমার কাছে টাকা নেই।এই নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা অশান্তি শুরু হয়।
তখন আক্রোশের বশে হাতের সামনে পড়ে থাকা আধলা ইট দিয়ে কৃষ্ণ মহন্মদ আনোয়ার কে মাথায় আঘাত করে। থেঁতলে খুন করে আনোয়ারের দেহ ফেলে রেখে চম্পট দেয়।মগরা থানার টহলদারী ভ্যান রাস্তার পাশে আনোয়ারের দেহ পড়ে থাকতে দেখে মগরা থানায় খবর দেয়।পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর নিশ্চিত হয় আনোয়ার কে খুন করা হয়েছে।পরদিন আনোয়ারের মামা রঞ্জিত সাউ মগরা থানায় কৃষ্ণ ও লক্ষ্মীর নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন গৌতম মণ্ডল। এ বিষয়ে সরকারি আইনজীবী সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, পরিকল্পিত ভাবে আনোয়ার কে খুন করা হয়।মামলায় মোট ২৪ জন স্বাক্ষী দেয়।মামলার মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গ্যোপাধ্যায় বলেন, পুলিশ ও আইন বিভাগ দারুন কাজ করেছে।পুলিশ ঠিক সময়ে চার্জসিট জমা দিয়েছে বলেই অভিযুক্তরা সাজা পেয়েছে।হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার কামনাশিস সেন বলেন, যে কোনো অপরাধের কিনারা পুলিশ করে এবং দোষীরা সাজা ও পায়। পর পর বেশ কয়েকটি বড় বড় অপরাধে আদালত অপরাধীদের সাজা দিয়েছে তার মধ্যে অনেকগুলি সংগঠিত অপরাধ ছিল।

