CNBTV নিউজ ডেস্ক : পরকীয়া সম্পর্কের জেরে খুন রাজ বর্মন চাঞ্চল্য হুগলির মহানাদে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এই রক্তাক্ত অধ্যায়। অভিযুক্ত স্বামী অভিজিৎ সরকার, মৃত ব্যক্তি হালিশহর নিবাসী রাজ বর্মন এবং অভিযুক্তের স্ত্রী সাগরিকা সরকার এই তিনজনের মধ্যে চলছিল এক জটিল সম্পর্কের টানাপোড়েন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে মহানাদের বাসিন্দা সাগরিকা সরকারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নবদ্বীপের অভিজিৎ সরকার। বিয়ের কিছু মাস পর থেকেই সাগরিকার সঙ্গে অভিজিৎ-এর বন্ধু রাজ বর্মনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
সূত্রের খবর, রাজ এবং সাগরিকার মধ্যে ফোনালাপ, দেখা-সাক্ষাৎ ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আরও ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। আর এই সম্পর্কই হয়ে ওঠে সাগরিকা-অভিজিত দাম্পত্য জীবনের কাল। বিভিন্ন সময়ে সাগরিকা ও অভিজিৎ-এর মধ্যে এই সম্পর্ক নিয়ে তীব্র অশান্তি হয়। শেষমেশ গত শুক্রবার সাগরিকা তার শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসে নিজের বাড়িতে। এরপর শনিবার রাতে অভিজিৎও শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছয়।সাগরিকার পরিবারের দাবি, এই দাম্পত্য দ্বন্দ্ব মেটাতে রাজ বর্মন নিজে মহানাদে চলে আসে সাগরিকাকে ফোন করে। উদ্দেশ্য ছিল বিবাদ মেটানো এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। কিন্তু রবিবার সকালে মহানাদের এক মন্দিরের সামনে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ মন্দির চত্বরে বসে ছিলেন, সেই সময় সেখানে পৌঁছায় সাগরিকা ও অভিজিৎ। সাগরিকার অভিযোগ, অভিজিৎ একটি স্থানীয় দোকান থেকে ছুরি কিনে নিয়ে আসে এবং আচমকাই রাজের উপর হামলা চালায়। ছুরির কোপে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন রাজ বর্মন।
তৎক্ষণাৎ স্থানীয়রা রাজকে উদ্ধার করে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসা শুরুর আগেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অভিজিৎ সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

